Saturday, May 29, 2010

নামকথা


নামকথা




সবটা ঠিক ঠিক পড়তে হলে সংগে দেওয়া লিংক থেকে বাংলা ফন্ট ফ্রি ডাউনলোড করে ‎নিতে হবে৤ ‎
বিনামূল্যে বাংলা ইউনিকোড ফন্ট সরাসরি ডাউনলোড করুন নীচের এই লিংকে ক্লিক করে৤

Click on the Link and Download "AhanLipi-Bangla14" Unicode Font

https://sites.google.com/site/ahanlipi/font-download/AhanLipi-Bangla14.zip
=====================================


          নামের জন্য এ জগৎ, নামের জন্য সকল দৌড়ঝাঁপ৤ নাম কিনতে কত কড়ি যে মানুষ ফেলে তার ঠিক কী? অধ্যাপক বলেছিলেন, আমাদের মনের যদি ফোটোগ্রাফ নেওয়া যায়, তবে দেখা যাবে সেখানে কেবল আমি আমি আর আমি৤ এই আমিত্বকে যে ব্যাহত করে বা করবে তার প্রতি আমাদের মনোভাব অপ্রসন্ন হবেই৤
        আমাদের সমাজে আমরা বে-খেয়ালে নারীদের নামের প্রসারে পুরুষরা বিরাট বাধা হই৤ কাগজে দেখলাম, একজন চ্যাটার্জি থেকে আদালতে হলফনামা দিয়ে নাম পালটে ফিরে পিতার পদবি সেনগুপ্ত গ্রহণ করেছেন, কারণ তাঁরা বিবাহবিচ্ছিন্ন হয়েছেন৤


       মানুষের নামকরণ কেমন হওয়া উচিত?
       পুরুষদের নাম হবে পিতৃমুখী, আর নারীর নাম হবে মাতৃমুখী৤


              এভাবে নামকরণ করলে নানা ধরনের সমস্যা কিছুটা কমবে৤ অবশ্য তা সবার মতেই যে কমবে এমন নাও হতে পারে৤ প্রত্যেক কাজের সাধারণত দুটি দিক থাকেই, একটি ভালো দিক, আর অন্যটি এর বিপরীত তথা খারাপ দিক৤ যেমন, একটু মজা করেই বলা যাক-- একজন ট্রেনযাত্রী টিকিট চেকারকে বললেন, আপনারা যদি চুরি না করতেন তা হলে, ট্রেনের লাইন সোনা দিয়ে বাঁধানো যেত৤ শুনে চেকার বললেন, সেই সোনা তো আপনারা চুরি করতেন, ট্রেনের যে লাইনই থাকত না, ট্রেন চলত কী করে!


এসব অবশ্য শোনা পুরোনো গল্প৤ যা হোক, নাম নিয়ে দুচার কথা আলোচনা করা যাক৤


নামকথা
নামের আমি, নামের তুমি, নাম দিয়ে যায় চেনা
মনোজকুমার দ. গিরিশ



         আমাদের বাবা, ঠাকুরদা, তাঁর বাবা, তাঁর বাবা এমনি করেই তো প্রজন্মের গতি চলেছে৤ আমরা আমাদের ক’জন পূর্বপুরুষের নাম জানি? অনেকেই কিছুটা জানি৤ আগে অবশ্য সাত পুরুষের নাম জানা একটা অব্যতিক্রমী অবশ্য-জ্ঞাতব্য বিষয় ছিল৤ পূর্বপুরুষদের নাম না-জানাটা তখন খুব নিন্দনীয় ব্যাপার ছিল৤ সাধারণত বিয়ের আসরে পুরুত যখন মন্ত্র পড়ে বিয়ে দেন, তখন দরকার হয় পূর্বপুরুষদের নাম৤ আগে সাত পুরুষের নাম নাকি দরকার হত৤ এখন আর অত দরকার হয় না, কারণ কেউ আর অত পিছনের মানুষদের নাম মনে রাখার দরকার বোধ করেন না৤ আমি দেখেছিলাম একটি মেয়ে-- শিক্ষিত স্নাতক মেয়ে, তার ঠাকুরদার নাম জানে না৤ তার আগের অর্থাৎ ঠাকুরদার বাবার নাম যদি নাও জানে, নিজের ঠাকুরদার নাম অবশ্যই তার জানা উচিত ছিল৤


      যদি তার বাবার নাম হয় ক, আর তার ঠাকুরদার নাম হয় খ, এবং তার ঠাকুরদার বাবার নাম হয় গ, তবে তার বাবার নামকরণ ‘কখগ’ হলে মেয়েটি তার বাবার নামের মধ্যেই তিন পুরুষের নাম জেনে যেত৤ আলাদা কোনও উদ্যোগ লাগত না৤
      যদি তার বাবার নাম হয় সমীরণচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তবে পাওয়া যায়, তার বাবার নামটুকু এবং তাঁর ধর্মীয় জাতি পরিচয়৤ এতে নামের সামাজিক বিস্তার না কমলেও, প্রজন্ম পরম্পরাগত ধারা ছিন্ন হয়৤ মানুষ তো আর ভুঁইফোড় নয়৤ তাছাড়া সমীরণচন্দ্র মুখোপাধ্যায় নামের অন্য লোক থাকা খুবই সম্ভব৤ বাংলায় আছে প্রায় দেড় লক্ষ শব্দ, তার মধ্যে দন্ত্য-স দিয়ে শুরু শব্দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ স-দিয়ে শুরু নামও অনেক বেশি, তাই এমনি স-দিয়ে শুরু শব্দের নাম যাদের, তাঁদের নাম নিয়ে কিছু অতিরিক্ত সমস্যা হয়ই৤ একই পাড়ায় দুজন সমীরণ থাকা বিচিত্র নয়, এক মহল্লায়, বা একই এলাকায় একাধিক সমীরণ পাওয়া কঠিন নয়৤ তাই কোন্ সমীরণ তা বিশেষ করে চিহ্নিত করার জন্য পুব পাড়ার সমীরণ, লম্বা সমীরণ, রেলে চাকরি করে যে সমীরণ, এভাবে চিহ্নিত করার দরকার হয়৤ শুধু একটা শব্দ দিয়ে নামকরণ হলে, একই নামের বহু ব্যক্তি পাওয়া যাবে৤ দুটি শব্দ দিয়ে নামকরণ হলে একই নামে একাধিক ব্যক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়, আর তিনটি শব্দ দিয়ে নামকরণ হলে একই নামে একাধিক ব্যক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কমে যাবে৤


       যদি ‘সমীরণচন্দ্র প্রভাতকুমার আনন্দমোহন’, বলে উদ্দিষ্ট সমীরণচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের নামকরণ হত, তবে এই নাম দ্বিতীয়টি আর পাওয়া যেত না, অন্তত পাওয়ার সম্ভাবনা অতি বিরল৤ আর এতে সমীরণচন্দ্রের নামের মধ্যে তাঁর বাবা, এবং ঠাকুরদার নাম থাকায় সমীরণচন্দ্রের সন্তানদের আর তাদের ঠাকুরদা এবং ঠাকুরদার বাবার নাম আলাদা করে শেখার দরকার হত না৤ সমীরণচন্দ্রের পুত্রের নাম যদি হয় বিজনকুমার, এবং তার যদি দ্বিতীয় পূর্ব পুরুষের(ঠাকুরদার) নাম মনে থাকে, তবে ঠাকুরদার নামের সুবাদে অনেক প্রাচীন পূর্বপুরুষকে সে সহজে মনে রাখতে পারবে৤ যথাক্রমে ঠাকুরদা, ঠাকুরদার বাবা, এবং তাঁরও বাবা কে ছিলেন তা এই নামকরণের দৌলতেই জানা থাকবে৤


         সমীরণচন্দ্রের পুত্র বিজনকুমারের পুরো নাম হবে ‘বিজনকুমার সমীরণচন্দ্র প্রভাতকুমার’, সংক্ষেপে বিজনকুমার স. প্রভাত, তথা বি. স. প্রভাত৤ এ নামটি বাঙালির নাম কিনা তা বুঝতে পারা অবশ্য কঠিন হবে৤ গুহ, নস্কর, মুখোপাধ্যায়, দাস, চক্রবর্তী, সাঁতরা, ঘোষ, মৌলিক-- এসব নাহলে আমরা তো তাকে সহজে বাঙালি বলে চিনতে পারব না৤ মুসলিমদের ক্ষেত্রে অবশ্য কেবল নাম শুনে এখনও বলা কঠিন যে এই নামটি কোনও বাঙালির নাম কিনা? তৈরুম খান, বা এনামুল কবীর, কিংবা জাহিরুল হাসান নামগুলো বাঙালি নাম কি? আমার পরিচিত বলে আমি জানি এঁরা খাঁটি বাঙালি, অন্যথা জানার কী উপায়?


        কারও নাম যদি হয় কালী, রাম, কৃষ্ণ, ইন্দ্র, দুর্গা তবে মানুষ তার মধ্যে স্পষ্ট ধর্মীয় চিহ্ন দেখতে পান, কিন্তু যদি নাম হয়-- আকাশ, বাতাস, নদী, জল, বৃষ্টি, রোদ, আশা, আনন্দ, নিদ্রা, ফুল, বিলাস, ভাবনা, দেখা, কৌতুক, চমক, মেঘ, বিদ্যুৎ , উচ্ছ্বাস, রক্তিম ইত্যাদি তবে নামের মধ্যে কোনও ধর্মীয় প্রকাশ থাকে না৤ আজকাল দেখা যায় বাংলাদেশের অনেকের নাম এমনিভাবে রাখা হয়, এটা সুলক্ষণ৤ সাধারণত মুসলমানদের বেশি ধর্মভীরু মনে করা হয়, কিন্তু দেখা যাচ্ছে তাঁরাই নিজেদের নামের মধ্যে ক্রমে ধর্মীয় প্রভাব কাটিয়ে উঠছেন৤ আচরণে ধর্ম থাক, নামে কেন তা থাকতে হবে? রোজা, মন্দির, মসজিদ, উপোস, নামাজ, মানত, কমিনিয়ন, দরগা, পীর, দন্ডি ইত্যাদি থাক ব্যক্তির নিজ নিজ আচরণে, তা টেনে নামের মধ্যেও আনার দরকার নেই৤ নিজ নামের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় প্রদর্শন করা খুব জরুরি নয়৤ দাদু মনে করেন নাতির নাম কালীকৃষ্ণ রাখলে নাতিকে ডাকতে গেলে অনেকবার কালী এবং কৃষ্ণকে ডাকা হবে, এতে অনেক পুণ্য৤ কালী এবং কৃষ্ণ নাম নিলে যদি পুণ্যই হয়, তবে কৌশলী ফাঁকি দিয়ে সেটা হতে পারে না৤ ভক্তিভরে কালী এবং কৃষ্ণকে ডাকতে হবে৤ ফাউ বেগুনের মতো ফাউ পুণ্য হয় না৤ ঈশ্বরকে ফাঁকি দিয়ে পুণ্যলাভের চেষ্টায় আত্মপ্রতারণাও থাকে অনেকটা৤


           পুরুষদের নাম যেমন পিতৃমুখী বোঝা গেল, মেয়েদের নাম কেমন করে মাতৃমুখী হবে? সমীরণচন্দ্রের কন্যা পরি, সে কি পরি মুখোপাধ্যায় হবে না? যদি না হয়, তবে সে নাম কী হবে?
নারীমুক্তি নিয়ে অনেক আন্দোলন হয়, হচ্ছে৤ নারীর নিজস্ব পরিচয় নিয়েও ভাবা দরকার৤ একটি দম্পতির সন্তান কেবলই কি তারা পুরুষের সন্তান? যদি সঠিকভাবে দেখা হয়, তবে তা যে হতে পারে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না৤ সন্তানে নারী পুরুষ উভয়েরই সমান অংশ৤ বরং নারীর অংশই বেশি৤ অনেকটাই বেশি৤ সন্তানের সকল কষ্ট যন্ত্রণাই নারীকে বইতে হয়৤ ভূমিষ্ঠ হবার পরে যতটা, ভূমিষ্ঠ হবার আগে তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি-- পুরোটাই৤ যদি পুরুষকে সন্তান ধারণের সুযোগ দেওয়া যায়, তবে কোনও পুরুষ কি সন্তান ধারণে রাজি হবেন?


          পুরুষ নারীকে সুরক্ষা দেয়, কিন্তু পুরুষ নারীকে তাঁর আত্মপরিচয়ের ব্যাপারে কোনও সাহায্য কি করে? সুযোগ কি দেয়? দেখে বরং মনে হবে সন্তান যেন পুরুষের নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তি, ঠিক যেন জায়গা জমির মতো, অথবা জমানো অর্থ তথা ব্যাংক ব্যালান্স৤ যদিও আমাদের দেশে মেয়েদের অন্তত সম্পদ মনে করা হয় না, মনে করা হয় বিপদ৤ কারণ মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে, তার ভরণপোষণ রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে, ছেলেদের ক্ষেত্রে সে সমস্যা অনেক অনেক কম৤ এসব ব্যাপার অনেকটা সামাজিক গঠন ও ধ্যানধারণার উপরে নির্ভরশীল৤ সকল দেশে আমাদের দেশের মতো নারীকে দেখা হয় না৤ কোথাও আরও ভালো চোখে দেখা হয়, আবার কোথাও অনেক-বেশি খারাপ চোখে দেখা হয়৤ সেটা সামজিক সেট-আপ বা সমাজের গড়নের উপরে গড়িয়ে চলে৤ ধর্মীয় ব্যাপার স্যাপারও ‌অবশ্য সেখানে বিরাট ভূমিকায় অবতীর্ণ৤ পান থেকে চুন খসার রীতি কী হবে তা ধর্মীয় অভিভাবকেরা নির্ধারণ করে থাকেন৤


         নারীকে যদি তাঁর আত্ম পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, বা নারী যদি নিজেকে আত্মপ্রতিষ্ঠিত করতে চায় তবে, নারীর নাম হবে মাতৃমুখী৤ সমীরণচন্দ্রের কন্যা-- পরি কী নামে পরিচিত হবে? তার মায়ের নাম হল বিনতা৤ তাহলে পরির নাম হবে-- পরি বিনতা৤ তবে এখানে থামলে চলবে না৤ পরির মা বিনতা, আর বিনতার মা হলেন সুলেখা৤ তাই পরির পুরো নাম হবে-- পরি বিনতা সুলেখাপরির নামের সঙ্গে তার ঠাকুরমার নাম জুড়বে না জুড়বে তার মায়ের-মা, তথা দিদিমার নাম৤ পুরুষেরা যেমন পূর্ব পুরুষদের ধারা বজায় রাখছেন, নারীরা তেমনি নারীধারা বজায় রাখবেন, পূর্বসূরি নারীদের ধারা৤ মা-- মায়ের মা-- তাঁর মা-- তাঁরও মা, এমনিভাবে তা এগিয়ে চলবে৤ এতে সকল নারীই সমভাবে বিবেচিত হবেন৤ পরির ঠাকুরমার নাম যদি হয় কমলা, তবে কমলার মেয়ে কমলারই নাম পাবে৤ যেমন, বাসবী-কমলা-নন্দাপরির পিসি(বাবা সমীরণচন্দ্রের বোন) হলেন বাসবী, পরির ঠাকুর মা হলেন কমলা(অর্থাৎ পিসি বাসবীর মা), আর ঠাকুরমা তথা কমলার মা হলেন নন্দা(বাসবীর দিদিমা)৤ অর্থাৎ বাসবী--বাসবীর মা(কমলা)-- বাসবীর মায়ের মা(দিদিমা, নন্দা), বাসবী-কমলা-নন্দা৤ এখানেও মাতৃধারা বজায় থাকবে৤ যে মায়ের গর্ভে যার জন্ম সে পাবে তার মায়ের নাম৤ পরির বাবার মা তথা ঠাকুরমা(কমলা) যেহেতু পরির মায়ের(বিনতা) জন্মদাত্রী নন(তিনি শাশুড়ি) তাই, পরি তার ঠাকুরমার নাম পাবে না৤ পাবে মায়ের জন্মদাত্রী তথা দিদিমা(সুলেখা)-র নাম৤


       এভাবে তিন প্রজন্মের নাম পর পর জুড়ে হবে ব্যক্তিনাম৤ তা পুরুষের নাম হোক বা নারীর নাম, যার নাম-ই হোক৤ তবে মানুষের নামকরণ অবশ্যই পুরুষ নারী--- পু-না(Gender জেন্ডার), লিঙ্গভেদ অনুযায়ী হবে, সে ব্যাপারে কোনওই দ্বিমত নেই৤






          দেখা যায় সামাজিক নানা কারণে মেয়ের চেয়ে লোকে ছেলেই বেশি চান৤ এক্ষেত্রে নারী অন্তত মনে মনে চাইবেন তাঁর কন্যা হোক, তাঁর নিজ পরিচয়ের ধারা বয়ে চলুক ফল্গু ধারার মতো৤
নামের মধ্যে মানুষের আত্মপরিচয় লুকানো থাকে, অহংবোধও সুপ্ত থাকে৤ নামের জন্য মানুষ কী না করতে চায়, বা কী না করতে পারে? সেই নাম পরিচয় থেকে মেয়েরা আসলে বঞ্চিত হয়েই আছে৤ তাঁদের এবার নিজ নামের সুবিধা দিতে হবে৤ প্রজন্মের ধারা কেবল পুরুষেরা বহন করবেন, নারী তা করবেন না, এমন হওয়া ঠিক নয় তাই নারী নাম হবে মাতৃমুখী৤


         একজন কৃতী মেয়ে কম বয়সে বিখ্যাত হয়ে পড়ল৤ তার নাম ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে৤ সবাই তাকে এক ডাকে চেনে অমুক বন্দ্যোপাধ্যায়৤ কিছুদিন পরে তার বিয়ে হল৤ অমনি সঙ্গে সঙ্গে কেবল গোত্র নয়, তার নামের পদবিও পালটে গেল৤ সে হল অমুক মুখার্জি৤ লোকে তখন আর ঠিক ঠাহর করতে পারে না, কে এই সহসা নবীনা? আসলে সে যে সহসা নবীনা নয়, বহু পরিচিত তা লোককে বোঝাতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে৤ কিন্তু বিয়ের পরে যদি তার নাম পালটাতে না হয়, তবে এই সমস্যা থাকে না৤ এজন্য নাম হতে হবে মাতৃমুখী৤ মাতৃমুখী নাম চিরকাল একই থাকবে, সেখানে আলাদা করে পদবি জুড়বার কোনও ব্যবস্থা বা জায়গা নেই, জন্মের সময়ে যে নাম হবে, সেই একই নাম চিরকাল থাকবে, পুরুষদের যেমন শৈশবের নাম চিরকাল একই থেকে যায়৤ বিয়ের আগে অর্জিত ডিগ্রি, সম্পত্তি বা অন্য কোনও ব্যপারে, বিয়ের পরে নাম পালটাবার যে সমস্যা, তা কিন্তু মাতৃমুখী নামে হবে না৤ ধরি ডিগ্রি, ডিপ্লোমা, ব্যাংক একাউন্ট, জমির দলিল, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড বা এধরনের পরিচিতির সামনে পড়ে মাতৃমুখী নামকে পর্যুদস্ত হতে হবে না৤ পুরুষদের এসব বিদঘুটে সমস্যায় পড়তে হয় না৤
           আর একটা ব্যাপার হল, যাঁরা সমাজের তথাকথিত উঁচু স্তরে অবস্থান করেন তাঁরা এই ধরণের নামকরণে খুশি হবেন না, কারণ তাতে তাঁদের নামের যে মহানত্ব তা প্রাকশ করার ব্যবস্থা এতে থাকে না৤ আবার অন্যদিকে যাঁদের নামের শেষের পদবি একটা ভার বা বোঝা বিশেষ, তাঁরা এই নতুন মাতৃমুখী ও পিতৃমুখী নামকরণে হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন৤ কারণ তাঁদের তো হারাবার কিছু নেই, বরং পাবার আছে মান৤ নতুন নাম-ব্যবস্থায় তাঁদের নামের (পদবির)জন্য আর নিত্য বিড়ম্বিত হতে হবে না৤ এখানে বন্দ্যোপাধ্যায়েরও যে প্রকৃতির নাম হবে, নস্করেরও সেই একই প্রকৃতির নাম হবে, দাস বা বাউড়িরও সেই একই নিদান৤ আর দেশে এই অবদমিত নামপদবির মানুষই তো সংখ্যাগরিষ্ঠ৤ তাই এটা মানুষকে বৃহদংশে মুক্তি দেবে, শুধু নারী নয়, মুক্তির স্বাদ আরও অনেক বেশি মানুষ পাবেন৤ নারী যদি ৫০%শতাংশ হন, আর বাকি পঞ্চাশ শতাংশের মধ্যে ৩০-৪০%শতাংশই তো নতুন সুবিধাভোগী হবেন, অর্থাৎ একুনে ৮০-৯০ শতাংশ৤ জাতিপরিচয়ে হিন্দুসমাজে ব্রাহ্মণ সবচেয়ে বড়৤ কিন্তু অপরিচিত ব্রাহ্মণ-পদবিধারীদেরও লোকসমাজে বিব্রত হতে হয়৤ যেমন ব্রাহ্মণ পদবি-- চিতলে, বলোৎকটা, ধামাইতকন্নি৤
         এক সুন্দর তরুণ মুসলিম যুবকের সঙ্গে এক মুখার্জি কন্যার বিয়ে হল৤ দুঃখজনকভাবে কিছুকাল পরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়৤ দুঃখজনক হলেও ঘটনা এমনিই৤ এ ক্ষেত্রে মেয়েটির নাম পদবী নিয়ে যে সংকট তার কী হবে? 

         গণতন্ত্রের তো এটাই রীতি যে বেশি মানুষ সুবিধা পান৤ সুবিধা পান যাঁরা বেটারহাফ তাঁরাও, তাঁরা তো আজন্মকাল তা পান নি৤


         মেয়েরা যেন পদ্মপাত্রে জল, সদাই করছে টলমল৤ প্রাক বিবাহে এক নাম আর পদবি, বিয়ের পরে অন্য পদবি, বিবাহ বিচ্ছিন্ন হলে ফের পিতার পদবি, পুনর্বিবাহে নতুন পদবি৤ নারী যখন যে পাত্রে থাকে, তখন সে সেই রূপ ধরে৤ এজন্যই কি বিবাহের “পাত্র” চাই?


         এসব কথার অর্থ কিন্তু নারীকে সমাজ-বিদ্রোহের ইন্ধন যোগানো নয়, বরং আত্মবিকাশের দিকে সহায়তার হাত প্রসারিত করা৤ এতকাল সেটা হয়নি, সেটা এবার হোক৤ নারী হোন পুরুষের প্রকৃত সমকক্ষ-- যেন তাঁকে গলগ্রহ হয়ে থাকতে না হয়৤ পুরুষের মতো নারীও একই কক্ষে বিচরণ করুন-- একই লক্ষ্যে৤ বিপরীতমুখী হলে সংঘর্ষ ঘটবে যে৤ তাতে হবে সমাজের অকারণ শক্তি ক্ষয়৤


নিবন্ধ লেখক-- মনোজকুমার দীনেশচন্দ্র গিরিশচন্দ্র
মনোজকুমার দ. গিরিশ৤
ম. দ. গিরিশ




সর্বশেষ পরিমার্জন  ০৫/১২/২০১৬





Tuesday, April 20, 2010

বই প্রকাশ-- বাংলা নববর্ষ৤ ১ বৈশাখ, ১৪১৭


বিনামূল্যে বাংলা ইউনিকোড ফন্ট সরাসরি ডাউনলোড করুন নীচের এই লিংকে ক্লিক করে৤

https://sites.google.com/site/ahanlipi/font-download/AhanLipi-Bangla14.zip

===================================



বাংলা নববর্ষ

১ বৈশাখ ১৪১৭

১৫/০৪/২০১০ বৃহস্পতিবার

শিশুদের হরফ পরিচয়ের বই “বাংলা বর্ণমালা”
প্রকাশিত হল৤ বইখানিতে কেবলমাত্র অ আ ক খ
আছে, প্রতি পৃষ্ঠায় একটি করে হরফ৤ পৃষ্ঠাসংখ্যা ৫২, মোটা আর্ট পেপারে ছাপানো৤ বইখানির প্রচ্ছদ, এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পিছনের মলাটের ছবি তুলে ধরা হল:-

বইয়ের প্রচ্ছদ






দ্বিতীয় মলাটের ছবি





তৃতীয় মলাটের ছবি





চতুর্থ মলাটের ছবি





‎==================================‎

বাংলা বর্ণমালা
শিশুদের হরফপরিচয়ের এই বইখানি দেখা যাবে ‎‎বাংলামগ্ন ব্লগে৤ এপ্রিল ২০১০৤ ‎‎(Blog Archive 2010, April)‎


‎==================================‎

বাংলা বর্ণমালা

"লেখাপড়া"-- বাংলা শিক্ষার প্রাথমিক ‎বইখানিতে প্রাথমিক শিক্ষার সম্পূর্ণ পাঠ পাওয়া যাবে৤ আপলোড করা আছে ‎‎বাংলাবিশ্ব ব্লগে৤ মোট চারটি খণ্ডে ‎বিভক্ত৤ নভেম্বর ২০০৮(প্রথম খণ্ড), ডিসেম্বর ২০০৮(দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ‎খণ্ড)৤ ‎


‎==================================‎

Tuesday, July 28, 2009

বৃষ্টি ঝরে৤

বিনামূল্যে বাংলা ইউনিকোড ফন্ট সরাসরি ডাউনলোড করুন নীচের এই লিংকে ক্লিক করে৤


সর্বান্তিক  ‘অহনলিপি-বাংলা১৪’  ফন্ট ডাউনলোড:


https://sites.google.com/site/ahanlipi/font-download/AhanLipi-Bangla14.zip

===========================

-----

বৃষ্টি ঝরে 

ধারায় ধারায়, এসো এ ধরায়৤

তোমার অন্তরে যে আশিস আছে
দেহ গো ত্বরায়,
এসো এ ধরায়৤
আমার মনের বনে যে ফুল ফোটে,
তারে তুমি দাও রাঙিয়ে আনন্দধারায়,
এসো এ ধরায়৤
তোমার করুণাধন
যেন না হয় এমন,
ভুলিবে আমায়৤
এসো এসো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে শত ডানা,
তোমার নেই তো কোনও মানা,
ঝরিয়ে দেবে ঝরনাধারায়
আকূল এ ধরায়৤
এসো তুমি এসো প্রাণে
বিশ্বপ্রাণের আমন্ত্রণে
করুণাধারায়,
এসো এ ধরায়৤
ছিলেম বসে চাতক পাখি,
তুমি হেথা আসবে না কি,
ধরা ধুয়ে ভাসবে না কি উছল ধারায়,
এসো এ ধরায়৤
ধারায় ধারায় তুমি নবীন জলদ,
ভরে কলসি ঢালবে সুখে
চাতক এ ধরায়,
ঘুচিয়ে দেবে অনেক কালের শুষ্ক ধরায়,
ঘাসে ফুলে পত্র ফলে ছড়িয়ে দেবে আনন্দ কণায়,
জয়, জয়গো তোমার জয়৤
গাহি নেচে নেচে পুলক সে যে
হিল্লোলিয়া যায়৤
এসো সুখে আমার বুকে,
ধারায় ধারায়, এসো এ ধরায়৤ 




Sunday, May 24, 2009

বাঁচাও ধরণীরে Save the Earth

বিনামূল্যে সর্বান্তিক‎ বাংলা ইউনিকোড ফন্ট সরাসরি ডাউনলোড করুন নীচের এই লিংকে ক্লিক করে৤ 

https://sites.google.com/site/ahanlipi/font-download/AhanLipi-Bangla14.zip



=======================





ধরণী-
বাঁচাও ধরণীরে Save the Earth


*** বাঁচাও ধরণীরে ***
পৃথিবীকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৯৬০-এর জনসংখ্যায়(ছিল ২৯৮ কোটি ৪৯ বছরে ২.২৭ গুণ বেড়ে এখন ৬৭৭ কোটি)৤ জনবৃদ্ধিই দূষণের উৎস৤
এক পরিবার, এক শিশু৤
জনসংখ্যার লক্ষ্যে না পৌঁছানো অবধি প্রতি দুবছর অন্তর পুরো একবছর শিশু জন্মানো বন্ধ থাকবে৤

*** Save the Earth ***To save the Earth from pollution, go back to world population of 1960(it was 298,00,00,000 heads, multiplying 2.27 times in 49 years now it is 677,00,00,000 heads). Population is the source of pollution.
One family One child.
Stop child birth for one full year after every two years till achieve the goal of population.



=======================

Friday, December 12, 2008

শব্দছক

বিনামূল্যে সর্বান্তিক‎ বাংলা ইউনিকোড ফন্ট সরাসরি ডাউনলোড করুন নীচের এই লিংকে ক্লিক করে৤


https://sites.google.com/site/ahanlipi/font-download/AhanLipi-Bangla14.zip


=================
শব্দছক __মজাদার খেলা। নির্দেশ অনুযায়ী শব্দ বসাতে হবে আর মজার শব্দের খেলায় মেতে যান--
(প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বন্ধনীর মধ্যে হরফ/ঘর সংখ্যা দেওয়া হয়েছে)

------------------------------------------
৤১৤ ৤* ৤২ ৤৩ ৤ ৤* ৤৪ ৤ ৤৫ ৤
------------------------------------------
৤ ৤*৤৬ ৤৭ ৤ ৤*৤*৤ ৤*৤ ৤
------------------------------------------
৤*৤*৤৮ ৤ ৤ ৤৯ ৤ ৤ ৤১০ ৤ ৤
------------------------------------------
৤*৤১১ ৤ ৤*৤* ৤১২ ৤১৩ ৤*৤ ৤*৤
------------------------------------------
৤১৪ ৤* ৤১৫ ৤ ৤*৤ ৤১৬ ৤১৭ ৤১৮ ৤ ৤
------------------------------------------
৤১৯ ৤২০ ৤ ৤* ৤২১ ৤ ৤ ৤ ৤* ৤*৤
------------------------------------------
৤ ৤ ৤* ৤২২ ৤ ৤ ৤*৤২৩ ৤২৪ ৤*৤
------------------------------------------
৤*৤ ৤২৫ ৤ ৤* ৤ ৤*৤* ৤২৬ ৤২৭ ৤
------------------------------------------
৤*৤২৮ ৤২৯ ৤ ৤৩০ ৤ ৤ ৤৩১ ৤ ৤ ৤
------------------------------------------
৤*৤৩২ ৤ ৤*৤ ৤৩৩ ৤ ৤ ৤*৤*৤
------------------------------------------

(আগে নিজে করে, পরে সমাধান দেখুন)

[বন্ধনীতে দেখানো হল ক‘টা ঘর হতে পারে]
শব্দ লেখা __ পাশাপাশি, উপর-নিচ,
(অতিরিক্ত অর্থবোধক শব্দ খোঁজা__ দু-দিকেই শব্দ পাওয়া যাবে)৤
দু-দিক=১, ২, ৪, ৫, ৯, ১০, ১২, ১৬, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১(আঠারোটি)৤

পাশাপাশি--
১।গ্রীষ্মকালীন রসালো সুস্বাদু ফল
২।মশা আটকাবার ব্যবস্থা
৪।কাগজে ছাপা হয় রোজ, টিভি রেডিয়োতে শুনি
৭।মহিলাদের পরিধেয় পোষাক
৮।রামকৃষ্ণের শিষ্য বিখ্যাত মণীষী(৫)
১০।যেখানে অনেক গাছ থাকে
১১।নৌকা বাওয়ার ব্যবস্থা
১২।নিত্য ব্যহার্য তরল
১৫।কাঁটাগাছে হয়, শীতকালীন ছোট ফল
১৬।লম্বা গলা মাছ খেকো পাখি
১৮।হাতে পায়ে থাকে, নিয়মিত কাটতে হয়
১৯।এখানে অনেক পাকা বাড়ি, গাড়ি, লোকজন থাকে
২১।এর অপর নাম জীবন(২)
২২।মাঠে চাষ করা ফসলের অবশেষ(২)
২৩।আনন্দ
২৫।এছাড়া
২৬।ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-- মায়ের দিক থেকে
২৭।শিশুর সবচেয়ে প্রিয়জন
২৮।খাওয়ার কাজে লাগে--ধাতুর তৈরি(৩)
৩০।পরিচয়(৩)
৩১।চুরি ঠেকাবার ব্যবস্থা(২)
৩২।তীব্র
৩৩।জোরালো আলো পাবার হাতে বওয়া ব্যবস্থা


উপর-নিচ--
১।মাটির তলায় হওয়া মশলা
২।জ্বালাতনকারী ক্ষুদ্র কীট(২)
৩।সুতোয় তৈরি দীর্ঘ পোষাক(২)
৪।ব্যয়
৫।রান্না
৬।দেশ খ্যাত কবি
৯।বিপ্লবী কবি
১০।নিয়ে যাওয়া
১৩।রান্নার উপকরণ
১৪।খুশি ভাব
১৭।লেখার হাতিয়ার
২০।প্রয়োজন(৩)
২১।চেতনাহীন পদার্থ
২২।ব্যয়
২৪।পুরুষের পরিধেয়(২)
২৫।টক ফল
২৬।গলায় পরার ফুলসাজ
২৭।শীতের মাস
২৮।মৌমাছি বানায়
২৯।শব
৩০।পিতা
৩১।ফল, গানের অঙ্গ


-----------------------------------------------
৤১আ ৤ম ৤* ৤২ম ৤৩শা ৤রি ৤* ৤৪খ ৤ব ৤৫র ৤
-----------------------------------------------
৤দা ৤*৤৬র ৤৭শা ৤ড়ি ৤*৤*৤র ৤*৤ন্ধ ৤
------------------------------------------
৤*৤*৤৮বি ৤বে ৤কা ৤৯ন ৤ন্দ ৤চ ৤১০ব ৤ন ৤
------------------------------------------
৤*৤১১বৈ ৤ঠা ৤*৤*৤১২জ ৤১৩ল ৤*৤হ ৤*৤
------------------------------------------
৤১৪আ ৤*৤১৫কু ৤ল ৤*৤রু ৤১৬ব ৤১৭ক ৤১৮ন ৤খ ৤
------------------------------------------
৤১৯ন ৤২০গ ৤র ৤*৤২১জ ৤ল ৤ণ ৤ল ৤*৤*৤
------------------------------------------
৤ন্দ ৤র ৤*৤২২খ ৤ড় ৤ই ৤*৤২৩ম ৤২৪জা ৤*৤
------------------------------------------
৤*৤জ ৤২৫আ ৤র ৤*৤স ৤* ৤*৤২৬মা ৤২৭মা ৤
------------------------------------------
৤*৤২৮চা ৤২৯ম ৤চ ৤৩০আ ৤লা ৤প ৤৩১তা ৤লা ৤ঘ ৤
------------------------------------------
৤*৤৩২ক ৤ড়া ৤*৤ব্বা ৤৩৩ম ৤শা ৤ল ৤*৤*৤
------------------------------------------







দু-দিক=১, ২, ৪, ৫, ৯, ১০, ১২, ১৬, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১(আঠারোটি)৤

সমাধানঃ--
পাশাপাশিঃ--১।আম, ২।মশারি, ৪।খবর, ৭।শাড়ি, ৮।বিবেকানন্দ(৫), ১০।বন, ১১।বৈঠা, ১২।জল, ১৫।কুল, ১৬।বক(২), ১৮।নখ, ১৯। নগর, ২১।জল(২), ২২।খড়(২), ২৩।মজা, ২৫।আর, ২৬।মামা, ২৭।মা, ২৮।চামচ(৩), ৩০।আলাপ(৩), ৩১।তালা(২), ৩২।কড়া, ৩৩।মশাল।
¨l'hp;h-4৮(আটচল্লিশ)

উপর-নিচঃ--১।আদা, ২।মশা(২), ৩।শাড়ি(২), ৪।খরচ, ৫।রন্ধন, ৬।রবিঠাকুর, ৯।নজরুলইসলাম, ১০।বহন ১৩।লবণ, ১৪।আনন্দ, ১৭।কলম, ২০।গরজ(৩), ২১।জড়, ২২।খরচ, ২৪।জামা(২), ২৫।আমড়া(৩), ২৬।মালা, ২৭।মাঘ, ২৮।চাক, ২৯।মড়া, ৩০।আব্বা, ৩১।তাল।

==========০০০০০০০০০===========

Tuesday, November 4, 2008

ধরো হাল, তোলো পাল


সবটা ঠিক ঠিক পড়তে হলে সংগে দেওয়া লিংক থেকে ফন্ট ফ্রি ডাউনলোড করে ‎নিতে হবে৤ ‎

বিনামূল্যে সর্বান্তিক‎ বাংলা ইউনিকোড ফন্ট সরাসরি ডাউনলোড করুন নীচের এই লিংকে ক্লিক করে৤
 

সর্বান্তিক  ‘অহনলিপি-বাংলা১৪’  ফন্ট ডাউনলোড: 


https://sites.google.com/site/ahanlipi/font-download/AhanLipi-Bangla14.zip


==============================
ধরো হাল, তোলো পাল

          এই উদাত্ত ডাক বাঙালি একেবারে মনে প্রাণে মেনে নিয়েছে৤ তারা প্রাণপণ হাল ধরে থাকতে চাইছে, আর সে জন্য সে সর্ব প্রযত্ন করছে৤ তবে সে হাল কিন্তু নৌকোর হাল নয়৤ সে হাল হল লাঙল৤ কৃষি করেই সে পুরুষানুক্রমে চলবে এ তার পণ৤ তাই কোনও রকম শিল্পটিল্প সে করতে চাইছে না, শিল্প সইতে পারছে না৤ তাই সকল রকম উদ্যোগ নিয়ে তারা শিল্প তাড়াচ্ছে৤ তাড়িয়ে ছাড়ছে৤
         এতো শিল্পের ব্যাপার গেল৤ বাণিজ্য ব্যাপারটিও সে মন থেকে সকল প্রয়াসে দূর করে দিয়েছে৤ ব্যবসায়ে চর্বির বড় ক্ষতি হয়, এটা সে জানে৤ শুধু জানে না, খুব ভালো রকম জানে৤ তাই গতর নাড়ানোতে সে কিছুতেই রাজি নয়৤ ওসব ব্যবসার ঝুঁকি কেন নেওয়া ভাই৤ আইসো পরের গদিতে বইসো, মাস গেলে বাঁধা মাইনে পাও, কোনও চিন্তা নাই৤ আরে ভাই এমন সুখ কি আছে আর কিছুতে৤ নেই, নেই৤ হলফ করে বলছি নেই৤ তাই বাঙালিরা ভাই ভাই, পরের গদিতে কাজে যাই৤ দিনের শেষে মুক্তি৤ বাড়ি যাও, চা খাও, গপ্পোসপ্পো করো৤ বউ রাঁধুক৤ ডাল চচ্চরি কুমড়ো ছেঁচকি আলুর ঘন্ট আলুর দম৤ সাবড়ে দিয়ে বিড়িতে মারো দম৤ গা এলিয়ে দাও, ব্যবসার ঝুঁকি নেই, চিন্তা নেই, ফুরফুরে জীবন কাটাও৤ একদম তোফা থাকো৤ ব্যবসায়ে নেমে চর্বি ক্ষইয়ে, দুশ্চিন্তায় মাথার চুল ছিঁড়ে কাজ কি বলো? পাবে তো গোটা কয় বেশি টাকা৤
         বাপু হে, ট্যাকা বেশি থাকলে যে চোর ডাকাতের উপদ্রব সেটা সামলানো চাড্ডিখানি কথা নয়৤ তাই এসব ঝঞ্ঝাটে যাওয়া কোনও বুদ্ধিমানের কাজ নয়৤ খাওদাও, মাসের শেষে মাইনে পাও, আর গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াও৤ বাঙালিকে বুদ্ধিমান কি আর এমনি বলেছে রে ভাই, তার মাথায় ঘিলু আছে, তাই তার সুনাম চারিদিকে৤ স্রেফ বুদ্ধির জোরে তাই গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ফুর ফুর করে সে মহানন্দে ঘুরে বেড়ায়৤ চর্বির এক বিন্দু ক্ষয় নেই, একবিন্দু দুশ্চিন্তা অবধি নেই৤ আর কি চাই বাপু? গাদা গাদা টাকা হলেও কি মানুষ সুখী হয়, সংস্কৃতি সাহিত্য চর্চাই হল আসল জীবন, আর সেটা বাঙালিরা পুরো মাত্রায় উশুল করে নিচ্ছে৤ দুশ্চিন্তাহীন থেকে নাদুস নুদুস নধর হয়েই সে জীবন আনন্দে কাটিয়ে দিচ্ছে৤
         একবার জয়ধ্বনি করো বাঙালির৤ বাঙালির জয় হোক!